গ্রেপ্তার, আটক, নজরবন্দি কখন করা হয় ও কি করণীয় — আইন জানুন সহজ ভাষায়

গ্রেপ্তার, আটক, নজরবন্দি কখন করা হয় ও কি করণীয় — আইন জানুন সহজ ভাষায়
Website Development Services Kolkata

পুলিশ প্রশাসনের কাজ মানুষকে অপরাধীদের থেকে সুরক্ষা দেওয়া, প্রয়োজনে আপনার সাথে ঘটে যাওয়া কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত করে অভিযুক্ত কে ধরে কোর্টে হাজির করা এবং কোর্টের আদেশ পালন করা।

তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপারটা এতটা সহজ-সরল হয়না। বহু ক্ষেত্রেই পুলিশ জনসাধারণের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে চায় না, বা অকারণে ভয় দেখায়, অবৈধভাবে টাকা আদায় করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তো অপরাধীদেরকেও বাঁচাতে সাহায্য করে। তবে এসবের আসল কারণ হলো, আমরা, সাধারণ মানুষেরা আইনি জটিলতা এড়িয়ে চলতে চাই এবং সহজেই এই ধরণের পুলিশি জুলুমের শিকার হয়ে যাই।

তাই আসুন, আজ কাজের খবর-এ আমরা জেনে নিই আইনের নানান জরুরি জিনিস, যেমন পুলিশ কখন কিভাবে কাওকে অ্যারেস্ট করতে পারে, অ্যারেস্ট করলে আপনার কি করণীয়, কেউ অকারনে আপনার নামে এফআইআর করে দিলে কি করা উচিত, পুলিশ কাস্টডি কি, পুলিশ রিমান্ড কি, নজরবন্দি কি জিনিস এবং কি কারণে পুলিশ নজরবন্দি করে এবং আরো অনেক জিনিস।

ভারতীয় সংবিধানের কোথায় এইসব পাবো?

প্রথমেই জেনে রাখুন এইসব পুলিশি আইন এবং আপনার অধিকার সম্বন্ধে আমাদের সংবিধানের আর্টিকল ২২ (ভাগ ৩, অনুচ্ছেদ ২২) এ আপনার মৌলিক অধিকারের ব্যাপারে সম্পূর্ণ তথ্য পাবেন। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আপনার সংবিধান সম্বন্ধে সাধারণ জ্ঞান থাকাটাও জরুরি যাতে করে আপনি সহজে প্রতারিত বা বঞ্চিত না হন। আপনি যদি ভারতীয় সংবিধান বাংলায় পড়তে চান, তাহলে এখানে ক্লিক করুন

পুলিশ কখন অ্যারেস্ট বা গ্রেপ্তার করতে পারে?

সাধারণতঃ যেকোনো ধরণের অপরাধের জন্যে পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে অপরাধকে সংবিধানে দুভাবে ভাগ করা হয়েছে — সাধারণ অপরাধ এবং গম্ভীর অপরাধ।

সাধারণ অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ যদি কাওকে গ্রেপ্তার করতে আসে, তাহলে পুলিশের কাছে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা বা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট থাকতে হবে যাতে আপনাকে কেন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তার কারণ লেখা থাকবে। কোনো ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছে, ভয় দেখানো হয়েছে, ছিনতাই, প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া ইত্যাদি নানান ছোটোখাটো ঘটনাকে সাধারণ অপরাধের পর্যায়ে ফেলা হয়।

তবে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো গম্ভীর অপরাধ করে থাকে, যেমন খুন, দেশদ্রোহিতা, ধর্ষণ, ইত্যাদি ক্ষেত্রে পুলিশ কোনোরকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই কাওকে তুলে নিয়ে যেতে পারে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ কি করে?

মূলতঃ পুলিশের কাজ হলো, যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার বিবরণ পুলিশ ডায়েরিতে সময় সহ নথিভুক্ত করা এবং গ্রেপ্তারির সময় থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে কোর্টে জজের কাছে হাজির করা। প্রসঙ্গতঃ, থানা থেকে কোর্টে যাওয়ার জন্যে যে সময় লাগে, সেটা ওই ২৪ ঘন্টা সময়ের মধ্যে ধরা হয় না। এছাড়াও যদি গ্রেপ্তারির দিনের পরের দিন কোনো সরকারি ছুটির দিন হয়, সেক্ষেত্রেও সেটা ওই ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধরা হয় না।

পুলিশ কি থানায় অপরাধীকে শারীরিক নির্যাতন করতে পারে?

না, আইনত পুলিশ কখনোই অপরাধীকে শারীরিক অত্যাচার করতে পারে না। তবে, সাধারণতঃ অপরাধীর কাছে সত্য জানার জন্যে অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ বল প্রয়োগ করে। অপরাধী অত্যাচারের গ্রহনযোগ্য প্রমান কোর্টে দাখিল করতে পারলে, জজ পুলিশের ওপর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে।

জুডিশিয়াল কাস্টডি এবং পুলিশ রিমান্ড কি?

গ্রেপ্তারের পর যখন পুলিশ অপরাধীকে জজের কাছে নিয়ে যায়, জজ প্রয়োজন বুঝে তাকে জুডিশিয়াল কাস্টডি তে নিয়ে নেয় এবং তাকে জেলে পাঠিয়ে দেয়। জেনে রাখা উচিত, এই জেল থাকে জেলারের অধীনে এবং এখানে কোনোরকম পুলিশের অত্যাচারের ভয় থাকে না। যদিও সেরকম গম্ভীর অপরাধ না হলে জজ তাকে জামিন দিয়ে ছেড়েও দিতে পারে।

তবে অনেক সময় জেরা করার জন্যে বা ঘটনার পুনর্নিমার্ণের জন্যে পুলিশের যদি অপরাধীকে আবার নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার দরকার পড়ে, তখন পুলিশ আবার জজের কাছে গিয়ে অপরাধীকে পুলিশ রিমান্ডে দেওয়ার জন্যে দরখাস্ত দেয়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে, জজ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারে। সাধারণ এর পরেই পুলিশ বেশিরভাগ অত্যাচার করে।

গ্রেপ্তার হলেই গ্রেপ্তার হলেই তাহলে উকিল নিয়োগ করতে হবে??

না, সংবিধানের আর্টিকল ১৯ এ পরিষ্কার বলা আছে যে যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো পেশা বা ব্যবসায় নিজেকে নিযুক্ত করতে পারে, এবং সেই মতো সে উকিলের পেশাও করতে পারে। অর্থাৎ, আপনি চাইলে কোর্টে নিজের উকিলের কাজ নিজেও করতে পারেন। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর কিছু কঠোরতা আছে এবং সেক্ষেত্রে আপনাকে উকিল নিয়োগ করতে হবে।

এক্ষেত্রেও যেটা জানা জরুরি, সেটা হলো আপনার যদি উকিল নিয়োগ করার সামর্থ না থাকে, আপনি চাইলে বিনা পয়সায় সরকারি উকিলের জন্যে দরখাস্ত দিতে পারেন। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি উকিল ততটা মনোযোগ দেয় না এবং ফলত অধিকাংশ মোকর্দমা`ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত পার্টির হার হয়।

তাহলে নিবর্তনমূলক গ্রেপ্তারি কি জিনিস?

এতক্ষন যেগুলো বলা হলো, সেগুলো যখন কেউ কোনো অপরাধ করেছে সেক্ষেত্রে পুলিশ কি করে তার ব্যাপারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির উপস্থিতিই অনেক অপরাধ ঘটিয়ে দেয়। যেমন কোনো রাজনৈতিক মিছিলে থাকা কোনো নেতা। সেই সব ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধ যাতে না ঘটে যায়, সেই কারণে এধরণের হেভিওয়েট ব্যক্তিদের কোনো ওয়ারেন্ট বা কোনো অপরাধ ছাড়াই আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রয়োজনে পুলিশ এদের ৩মাস পর্যন্ত আটক করে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে পুলিশ সেই ব্যক্তিকে কোর্টে পেশ করতেও বাধ্য নয়। এমনকি, রাজ্য সরকারের আদেশ থাকলে, তাকে ৩মাসের বেশিও আটক করে রাখা যেতে পারে।

নজরবন্দি বা গৃহবন্দী কি জিনিস?

ঠিক যেভাবে পুলিশ কোনো ব্যক্তিকে থানায় আটক করে নিয়ে যেতে পারে, সেরকম ভাবেই কোনো ব্যক্তিকে গৃহবন্দীও করতে পারে। ঠিক যেমনটা ঘটেছিল কাশ্মীরে আর্টিকল ৩৭০ তুলে নেওয়ার সময়।

নজরবন্দি করার মূল উদ্দেশ্যই হলো যাতে সেই ব্যক্তি এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলার বিঘ্নতা ঘটাতে না পারে, তাই তাকে জনতার থেকে দূরে করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিকে তার নিজের বাড়িতেই আটক করে রাখা হয় এবং তাদের বাড়ির বাইরে বেরোনো বা বাইরের লোকের বাড়ির ভেতর যাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। তাদের ফোন বা অন্যান্য যোগাযোগের উপায়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র তাদের বাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।

এছাড়াও অনেক আইনি জটিলতা আছে যেগুলো আমরা ভারতীয় সংবিধান পড়লে জানতে এবং বুঝতে পারবো। কাজের খবরে একটু নজর রাখুন, আমরা এই ধরণের অনেক আইনি সাধারণ জ্ঞান সম্বন্ধে সহজ ভাষায় নানান প্রতিবেদন দেব। এছাড়াও আপনাদের কোনো আইনি প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করুন।

Post Free Classified Ad | Kajer Khobor

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *