অবাধ্য জেদি বাচ্চাকে কিভাবে সামলাবেন । প্যারেন্টিং টিপস | কাজের খবর

অবাধ্য জেদি বাচ্চাকে কিভাবে সামলাবেন । প্যারেন্টিং টিপস | কাজের খবর
Website Development Services Kolkata

বাচ্চারা কমবেশি বদমায়েশি করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি কোনো বাচ্চা মাত্রাতিরিক্ত জেদ করে, কোনো খাবার বা জিনিসের জন্যে চেল্লামিল্লি করে, রাগে জিনিসপত্র নষ্ট করে, এবং তার কথা মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যদি এটা চলতেই থাকে তখন বুঝতে হবে এটা অস্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকরা বুঝতে পারেন না কিভাবে বাচ্চাকে ঠিক-ভুল টা বোঝানো যায় এবং প্রায়শই আমরা ভুল পথেই এগোই।

আসুন কাজের খবর-এ আজ জেনে নিই বাচ্চারা এইধরণের আচরণ কেন করে, কোথায় ভুল হয়, কিভাবে এইসব বাচ্চাদের আমরা কিভাবে সামলাবো এবং আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

জেদ করা কি খারাপ?

জেদ ছাড়া ভালো লেখাপড়া, খেলাধুলা কোনোকিছুই হয়না। কিন্তু, জেদ যখন নিজের ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় এবং যখন বাবা-মা কে বার বার বাচ্চার জেদের কাছে হার মানতে হয় তখন শুরু হয় সমস্যা। এই জেদ বাচ্চার ভবিষ্যতের পক্ষে যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অভিভাবকদের পক্ষে বিরক্তিকর।

বাচ্চারা জেদ কেন করে?

সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাচ্চারা জেদ করে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করতে এবং নিজের দাবি মানাতে। বাচ্চাদের যেহেতু গায়ের জোর কম, তাই তারা এই ধরণের ব্যবহার করে নিজেদের ইচ্ছা পূরণ করতে আপনাকে বাধ্য করে।

বাচ্চারা জেদ করতে শেখে কিভাবে?

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই প্রতিটা জীব নিজের প্রয়োজন মেটানোর উপায় শিখে যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাচ্চারা এটা শেখে তার পরিবেশ, মানে বন্ধুবান্ধব, ভাই-বোন, বাবা-মা এদের কাছেই। আর তার থেকেও যেটা বেশি চিন্তার, সেটা হলো বেশিরভাগ অভিভাবকরাই শুরুর দিকে এটাকে যথাসম্ভব মেনে নিয়ে এই অভ্যাসটাকে আরো জটিল করে দেয়।

যখন কোনো বাড়িতে একাধিক বাচ্চা থাকে, এই জেদ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং জটিল হয়ে ওঠে। একমাত্র সন্তানরা সাধারণত কোনো দাবি করলে যেহেতু এমনিতেই পেয়ে যায়, তাই তাদের এই জেদ তা অনেক সময় শুরুতে বোঝাই যায় না।

তাহলে কি বাচ্চা জেদ করলেই কঠোর শাসন করবো?

একদম না। হিতে বিপরীত হবে। আপনাকে বুঝতে হবে যে জেদ এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করা। তাই আপনি বকাঝকা বা মারধর করা মানেও বাচ্চার জেদে মনোযোগ দিলেন। তাই কখনোই এই ভুল করবেন না। বরং, প্রতিদিন মারধর করলে বাচ্চার তাতে অভ্যাস হয়ে যাবে, এবং অবশ্যই আপনার প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরী হবে।

তাহলে উপায় কি?

প্রাথমিক এবং সব থেকে কার্যকরী উপায় হলো বাচ্চার জেদে নজর না দেওয়া। সেই সময়ের জন্যে ভুলেই যান যে বাড়িতে সে আছে। আপনি আপনার কাজে ব্যস্ত থাকুন। দেখবেন কিছুক্ষন পর সে বিরক্ত হয়ে জেদ করা ছেড়ে দেবে। হয়তো কিছু বাচ্চা প্রথম প্রথম আরো বেশি করে জেদ করবে বা অন্যভাবে আপনাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে, যেমন চিৎকার করা, জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলা, হাত-পা ছোঁড়া ইত্যাদি। তাই সহজে হার মানবেন না।

পরের পর্যায়ে, বাচ্চাকে অন্যমনস্ক করার চেষ্টা করুন। স্বাভাবিকভাবে ওর সাথে অনন্য কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলুন। ধরুন বাচ্চাকে বাজারে নিয়ে গেছেন আর তখন ও আইসক্রিম খাওয়ার বায়না ধরলো, ওকে বলুন যে কালকে কোথায় বেড়াতে নিয়ে যাবেন আর সেখানে কি কি মজার জিনিস আছে। অবশ্যই মাথায় রাখবেন যে কখনোই একটা জিনিস কেনার বায়না থেকে মন সরাতে অন্য জিনিস কিনে দেবেন না।

তৃতীয় পর্যায়ে নিজের কিছু অভ্যেস পরিবর্তন করুন। বাচ্চার প্রয়োজন আর আব্দারের মধ্যে পার্থক্যটা মাথায় রাখুন। ভুলে যাবেন না যে ব্যাপারটা ‘একটা আইসক্রিম’এর নয়, এটা তার স্বাস্থ্যের ব্যাপার। বাচ্চার সাথে আরো বেশি করে সময় কাটান। ওকে শিক্ষামূলক গল্প শোনান, ওর সাথে বসে ছবি আঁকুন, বিভিন্ন মজার খেলা খেলুন। দেখবেন ধীরে ধীরে বাচ্চা আপনার সব কথা শুনবে এবং যখন ওর কোনো জিনিস নেওয়ার ইচ্ছে হবে, আপনি ওকে বোঝালে বুঝবে।

কি কি করবেন না

  • বাচ্চার সামনে তার জেদের ব্যাপারে কারো সঙ্গে কখনোই আলোচনা করবেন না।
  • বাচ্চার জেদ নিয়ে হাসাহাসি বা তর্ক-বিতর্ক করবেন না। মিথ্যা ভয় দেখিয়ে বিরত করার চেষ্টা করবেন না।
  • বাচ্চাকে বকাঝকা বা মারধর করবেন না বা অন্য বাচ্চার সাথে তুলনা করবেন না।
  • বাচ্চার সব আব্দারে ‘না’ করবেন না — কিছু সহজ আব্দার মেনে নিন। নাহলে আপনাদের প্রতি সে বিরূপ হয়ে যাবে।
  • যখন তার কোনো আব্দার আপনি পূরণ করতে চান না, তাকে বুঝিয়ে বলুন কেন আপনি মানা করছেন।
  • বাচ্চাকে কোনো কথা মানতে বাধ্য করবেন না। ওটাও এক ধরণের জেদ। বরং তাকে কয়েকটা বিকল্প প্রস্তাব দিন।

এছাড়াও কি কিছু করার দরকার আছে?

অবশ্যই আছে। মনে রাখবেন ‘আপনি আচরি ধর্ম, পরেরে শেখাও’। তাই খেয়াল করে দেখুন যে বাচ্চা এই জেদ শিখছে কোথায়। হয়তো আপনি বাড়িতে টিভির চ্যানেল বদলানো নিয়ে জেদ করেন, কাপড় কিনতে গিয়ে জেদ করেন, বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে কি অর্ডার করা হবে তা নিয়ে জেদ করেন। এধরণের ছোটোখাটো বিষয় হয়তো আপনারা নিজেরা খেয়াল করেন না, কিন্তু বাচ্চারা সব কিছুর নকল করে। অনেক সময় বাড়ির অন্যেরা বিভিন্ন বিষয়ে জেদ করে বা বন্ধুবান্ধবরা জেদ করে, সেসব দেখে বাচ্চা শেখে। তাই নিজের এবং অন্যদের এসব অভ্যাস বদলান, বা আপনার বাচ্চাকে ওদের থেকে দূরে রাখুন। নাহলে আপনার সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে।

সব শেষে আরেকটা কথা বলা দরকারি, যে কখনো অনুষ্ঠান-বাড়িতে গিয়ে বা শপিং মলে গিয়ে বিরক্ত হয়ে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন না। বাড়িতে একটু একটু করে প্রতিদিন ওকে শোধরানোর চেষ্টা করুন। বাচ্চারা খুব সহজেই নিজেদের পরিবর্তন করতে পারে। শুধু দরকার সঠিক প্যারেন্টিং এর।

এর পরও কিছু ক্ষেত্রে হয়তো সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুণ।

সুস্থ থাকুন। হাসিখুশি থাকুন।

Post Free Classified Ad | Kajer Khobor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *