বাচ্চার টিকা — সব বাবা-মায়ের যা অবশ্যই জানা উচিত

বাচ্চার টিকা — সব বাবা-মায়ের যা অবশ্যই জানা উচিত
Website Development Services Kolkata

বাচ্চার টিকা নিয়ে সব বাবা মায়েরাই কমবেশি চিন্তায় থাকেন। কোন কোন টিকা জরুরি; কোন বয়েসে দেওয়া উচিত; বয়েস পেরিয়ে গেলে দেওয়া যায় কি না; টিকা দেওয়ার পর কি কি পার্শপ্রতিক্রিয়া হতে পারে; সরকারি না বেসরকারি ডাক্তারের কাছে টিকা নেওয়া ভালো; এরম হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘোরে। তাই আসুন আজ বাচ্চার টিকা সম্বন্ধে জরুরী তথ্য কাজের খবরে বিশদে জেনে নিই।

টিকা কি জিনিস?

বাচ্চাদের রোজ লিখতে বলেন হাতের লেখা ভালো করতে। কিন্তু রোগের সাথে লড়তে শেখাবেন কিভাবে? এই কাজটাই করে টিকা। কিন্তু কিভাবে?

আসলে সমস্ত টিকাতেই সেই রোগের জীবাণু খুব কম মাত্রায় এবং নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। এই টিকা শরীরে প্রবেশ করলে আমাদের শরীর সেই জীবাণুর সাথে লড়াই করতে শুরু করে এবং এভাবেই আমাদের শরীর সেই জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে শিখে যায়, যা ভবিষ্যতের সংক্রমণ থেকে আমাদের দূরে রাখে। যেহেতু জীবাণুগুলো নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে, আমাদের রোগ সংক্রমণ এর ভয় থাকে না।

বাচ্চাকে টিকা দেওয়া কি জরুরি?  

হ্যাঁ, কিছু দুরারোগ্য এবং প্রাণঘাতী রোগের থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখতে টিকা অত্যন্ত জরুরি। অনেক জীবাণু ঘটিত রোগ আছে যথাযথ চিকিৎসা এখনো আবিস্কার হয়নি বা যার প্রকোপে প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়। সঠিক টিকাকরণ হয়ে থাকলে এসব রোগের সংক্রমণ থেকে বাচ্চারা সারাজীবনের জন্যে সুরক্ষিত থাকে।

কোন কোন টিকা আপনার বাচ্চার প্রয়োজন?

বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ডঃ প্রদীপ মুখার্জীর মতে, এলাকায় রোগের প্রকোপ এর ওপর ভিত্তি করে সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন টিকার সূচি বানিয়ে দেওয়া হয় এবং এই সূচি মেনে সমস্ত টিকা দেওয়া অবশ্যই দেওয়া উচিত। 

কিছু বেসরকারি হাসপাতালে অনেকসময় আরও কিছু টিকার ব্যাপারে বলা হয়। কিন্তু মনে রাখবেন বাজারে কোন একটা টিকা পাওয়া যাওয়া মানেই সেটা আপনার বাচ্চার জন্যে জরুরী নয়। যে রোগ আপনার এলাকায় হয় না, সে রোগের টিকা নেওয়া মানে অকারণে শরীর কে কষ্ট দেওয়া।

টিকার পার্শপ্রতিক্রিয়া — চিন্তার কিছু নেই তো?

অনেকেই মনে করেন যে পার্শপ্রতিক্রিয়া হওয়ার মানে টিকা বাচ্চার শরীরে কাজ করলো। আবার অনেকে ভয় পেয়ে যান যে বাড়াবাড়ি কিছু হয়ে যাবে না তো? কিন্তু মনে রাখবেন একটা টিকা যথেষ্ট পরীক্ষা করেই বাচ্চাদের ওপর প্রয়োগ করা হয় এন্ড অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামান্য পার্শপ্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। অনেক বাচ্চার শরীরে টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর, বা অন্যান্য পার্শপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কিন্তু সেটা যে সবার হবেই এরকম কোনো কথা নেই; এবং উভয় ক্ষেত্রেই টিকা একই রকম কার্যকর হয়। 

কিন্তু কোনো বাচ্চার যদি অত্যধিক সমস্যা হয়, যেমন এলাৰ্জি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি, অবশ্যই দেরি না করে আপনার ডাক্তার এর সঙ্গে তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করুন। 

টিকা দেওয়ার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে কি টিকা দেওয়া যায়?

সাধারণতঃ বাচ্চাদের ইম্যুনিটি খুব কম হয়, এবং সেই সুযোগে যাতে বাচ্চারা কোনো রোগে আক্রান্ত না হয়, তাই বিভিন্ন রোগের টিকা দেওয়া হয়। এবং এই কারণেই দেরি করা একদম বাঞ্চনীয় নয়। কিন্তু আপনি যদি কোনো কারণে আপনার বাচ্চার টিকার দিন ভুলে গিয়ে থাকেন বা অন্য কোনো কারণে তারিখ পেরিয়ে গিয়ে থাকে, তো অবশ্যই একবার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একবার যোগাযোগ করুন। সাধারণত, যেকোনো টিকা তার নির্ধারিত বয়েস এর পরে দিলে কোনো সমস্যা হয় না। যদিও এবিষয়ে মতান্তর আছে। 

ব্যাথাবিহীন টিকা না সাধারণ টিকা — কোনটা ভালো ?

বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ব্যাথা-বিহীন টিকা পাওয়া যায়, যেটা বাচ্চার পার্শপ্রতিক্রিয়া অনেকটা কমিয়ে দেয়। অনেক বাবা মা-ই আজকাল বাচ্চার কষ্টের কথা মাথায় রেখে এই টিকা দেওয়াচ্ছেন তাঁদের বাচ্চাকে। কিন্তু বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে, এই টিকার সাথে অল্প মাত্রায় পেইনকিলার এবং অন্যান্য ওষুধ দেওয়া থাকে যা আখেরে বাচ্চার শরীরে পূর্ণ মাত্রায় ইম্যুনিটি তৈরী করতে পারে না এবং বাচ্চা কিছুটা হলেও অসুরক্ষিত থেকে যায়। তাই একটু কষ্টের কথা ভেবে আপনার বাচ্চাকে মারক রোগের শিকার বানাবেন না। 

কোরোনার টিকা কি বাচ্চাকে দেবো ? যথেষ্ট সুরক্ষিত তো এই টিকা?

সরকারি ভাবে কোরোনার টিকাকরণ শুরু হয়েছে শুধুমাত্র হাসপাতাল, সাফাইকর্মী এবং এধরণের কিছু মানুষের জন্যে যারা প্রতিদিন করোনা রুগীর সংস্পর্শে আসেন। সামান্য দু-একটি ঘটনা ছাড়া এখনো এই টিকা নিয়ে কোনো বিরূপ তথ্য আসেনি, এবং এগুলোও যে কোরোনার টিকা নেওয়ার কারণেই হয়েছে সেটাও এখনো প্রমাণিত নয়। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে হয়তো বাচ্চাদের জন্যে সরকারি ভাবে কোরোনার টিকা দেওয়া শুরু হতে এখনো সময় আছে, এবং সেক্ষেত্রে আপনি এই নতুন টিকার ব্যাপারে অনেকটাই জেনে যেতে পারবেন। অযথা আতঙ্কিত হবেন না।

বিঃদ্রঃ এই লেখা শুধুমাত্র আপনার সাধারণ জ্ঞান এর জন্যে। এই লেখার ওপর ভিত্তি করে আপনার বাচ্চার টিকাকরণ এর সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার ডাক্তারই একমাত্র আপনার বাচ্চার টিকাকরণের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Post Free Classified Ad | Kajer Khobor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *